World Tribune
আইন ও আদালত

ডিএনসির ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির লিখিত অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস

নিউজ ডেস্ক
১৫ জুন, ২০২৬
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

ফাইল ছবি: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, চাঁদা দাবি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর লিখিত অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান 'লা পেসেতা ফ্যাশন অ্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশন'-এর মালিক ফরহাদ বিল্লা রুবেল (৩৯) এই অভিযোগ করেছেন।

গত ৭ জুন তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। অভিযোগের অনুলিপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

লিখিত অভিযোগে ব্যবসায়ী ফরহাদ বিল্লা রুবেল দাবি করেন, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশের ক্রেতা ও বিদেশি অতিথিরা নিয়মিত তাঁর অফিস ও বাসায় আসেন। তাঁদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিদেশি পানীয় বা হুকা-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী নিয়ে আসতেন, যার কিছু খালি বোতল ও অনুষঙ্গ ব্যবহারের পর তাঁর কার্যালয়ে থেকে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচয়ে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাঁর অফিসে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে পরিদর্শক মাহবুব রহমান, সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী, তৃষ্ণা রাণী বিশ্বাস, রুবেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান ও লুৎফর রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরহাদ বিল্লা রুবেলের ভাষ্য, কর্মকর্তারা অফিসে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এলোমেলো করতে শুরু করলে তিনি খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। তখন ঘটনার কারণ জানতে চাইলে profesআইন ও আদালতকে ক্ষুণ্ন করে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে প্রথমে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে কর্মকর্তাদের একজন (রুবেল হোসেন) উপপরিচালক মেহেদি হাসানের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা বলিয়ে দিলে দাবিকৃত অর্থ কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হয় এবং তাৎক্ষণিক অর্ধেক টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

অভিযোগ側に আরও বলা হয়, তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাঁকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে উপপরিচালক মেহেদি হাসান নিজে এসে ব্যবসায়ীর ব্যাগে থাকা নগদ ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। এরপর তাঁকে ঢাকার বনানী, গুলশান ও হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে গভীর রাতে গেন্ডারিয়াস্থ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগকারী দাবি করেন, নগদ ২০ লাখ টাকা নেওয়ার পরও পরদিন (৮ এপ্রিল) খিলক্ষেত থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ১২/৪/২৬)।

তবে রুবেলের দাবি, মামলার এজাহারে তাঁকে যেভাবে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এমনকি জব্দ তালিকায় থাকা স্বাক্ষরটিও তাঁর নয়। এছাড়া এজাহারে কর্মকর্তাদের অভিযানে প্রবেশ ও প্রস্থানের যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে, তা ভবনের সিসিটিভি ফুটেজের রেকর্ডের সঙ্গে মিলছে না। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী কর্মকর্তারা এজাহারে উল্লেখিত সময়ের অনেক আগে প্রবেশ করেন এবং অনেক পরে বের হন।

এ বিষয়ে অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, "সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার উচিত অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তা তদন্ত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) মো. বশির আহমেদ বলেন, "একটি লিখিত অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে জমা হয়েছে। বিষয়টি এখনো বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে অধিদপ্তর অবশ্যই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।"

শেয়ার করুন: